ইন্টারনেটে অতি-কৌতূহল সৃষ্টি করে সাধারণ নেটিজেনদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে মেহজাবিন ভাইরাল ভিডিও লিংক সংক্রান্ত খবর ও পোস্টগুলো বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন—ফেসবুক, টেলিগ্রাম, টিকটক কিংবা বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের কমেন্ট বক্সে প্রায়শই দেখা যায় নানা আকর্ষণীয় ও চটকদার ক্যাপশন দিয়ে তথাকথিত এই ভিডিওর লিংক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সাইবার সিকিউরিটি বিশ্লেষকদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ ধরনের লিংকগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এগুলো মূলত সাইবার অপরাধী ও অনৈতিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের তৈরি করা একটি সুপরিকল্পিত ডিজিটাল ফাঁদ।
সাধারণত এসব ভুয়া লিংক ছড়ানোর পেছনে দুটি প্রধান ব্যবসায়িক ও অনৈতিক কারণ কাজ করে। প্রথমত, অসাধু ওয়েবসাইট মালিকরা ট্রেন্ডিং বিষয় ব্যবহার করে নিজেদের ব্লগে দ্রুত বিপুল পরিমাণ ভিজিটর টেনে এনে বিজ্ঞাপনী আয় বাড়াতে চায়। দ্বিতীয়ত, হ্যাকাররা অত্যন্ত চতুরতার সাথে এসব লিংকের আড়ালে ফিশিং ট্র্যাপ লুকিয়ে রাখে। একজন ব্যবহারকারী যখন ভিডিও দেখার আশায় লিংকে ক্লিক করেন, তখন তাকে সরাসরি কোনো ভিডিওতে না নিয়ে হুবহু সোশ্যাল মিডিয়ার নকল লগইন পেজে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুনরায় পাসওয়ার্ড দিতে বলা হয়, যার ফলে মুহূর্তেই ব্যবহারকারীর আইডিটি হ্যাক হয়ে যায়।
আইডি হ্যাকিং ছাড়াও এ ধরনের অচেনা ও অনিরাপদ লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ডিভাইসে মারাত্মক সাইবার ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক সময় এসব পেজে ঢোকার সাথে সাথে ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার কিংবা অচেনা ফাইল ডাউনলোড হতে শুরু করে। এসব ক্ষতিকর ভাইরাস দূর থেকেই আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এর ফলে ডিভাইসে থাকা ব্যক্তিগত ছবি, সংবেদনশীল তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের ডাটা এমনকি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার তীব্র সম্ভাবনা থাকে।
সামাজিক ও মানসিকভাবেও এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়ানো মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ইন্টারনেটে স্পর্শকাতর তথ্য অনুসন্ধান করার এই প্রবণতা কেবল সময় নষ্ট করে না, বরং কোনো নির্দোষ ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে বা গুজব ছড়াতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখে। সাইবার অপরাধীরা জানে যে কৌতূহলের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে খুব সহজেই প্রতারিত করা যায়, আর তাই তারা প্রতিদিন নতুন নতুন চটকদার শিরোনাম ব্যবহার করে জাল বিছিয়ে রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, ইন্টারনেটে কোনো চটকদার বা স্পর্শকাতর শিরোনাম দেখে অন্ধের মতো ক্লিক করা নিজের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য চরম বিপজ্জনক। অনলাইনে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, জিমেইল এবং ব্যবহৃত স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখতে এসব বিভ্রান্তিকর লিংকে ক্লিক করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা উচিত। পাশাপাশি কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করে এ ধরনের পোস্ট অন্য কারও কাছে শেয়ার না করা এবং অনলাইনে সবসময় সচেতনতা বজায় রাখাই একজন বুদ্ধিমান নেটিজেনের মূল দায়িত্ব।




